প্রথম বর্ষ, বাংলা অনার্স।
সন্ধ্যার ক্লাস চলছে, ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে শ্রেয়া ফোনে কথা বলছিল। তখনই হঠাৎ বৃষ্টির মাঝে ঝট করে একটা বাইক এসে থামে কলেজের গেটের সামনে। হেলমেট খুলে বেরিয়ে আসে রিশাদ।
নতুন ছাত্র, একটু চুপচাপ। ক্লাসে সবার সঙ্গে মিশে না, কিন্তু টিচাররা বলেন, “ও ছেলেটা খুব গভীর, লেখালেখিতে দারুণ।”
শ্রেয়া প্রথম দিন ওকে খেয়াল করেছিল এক খাতা হাতে লাইব্রেরিতে। তাতে লেখা ছিল—
“বইয়ের পাতায় সারাংশ লিখি, আর জীবনের পাতায়… সারাংশ খুঁজছি—তোমায়।”
একদিন শ্রেয়া সাহস করে বলে,
— “তোমার কবিতাগুলো কি সত্যি কারও জন্য লেখা?”
রিশাদ একটু চমকে বলে,
— “হ্যাঁ, কিন্তু সে জানে না… জানলেও হয়তো হাসবে।”
— “যদি না হাসে? যদি চুপ করে তাকিয়ে থাকে?”
— “তবে হয়তো আমি ওর চোখে প্রথমবার নিজের মতো কাউকে খুঁজে পাব।”
সেই সন্ধ্যার পর থেকে দুজনের মাঝে এক গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। মাঝে মাঝে শ্রেয়া বলত,
— “তুমি এত চুপ কেন?”
রিশাদ বলত,
— “তুমি এত হাসো কেন?”
— “কারণ তুমি চুপ, তাই আমাকে হাসতে হয়।”
একদিন শ্রেয়া অসুস্থ হয়ে যায়, কলেজে আসে না কয়েকদিন। রিশাদ তার জন্য প্রতিদিন একটা করে চিঠি লিখে জমিয়ে রাখে। ফেরার দিন শ্রেয়া ক্লাসে আসে আর ব্যাগে খুঁজে পায় একগুচ্ছ চিঠি। তাতে লেখা:
“তুমি না এলে দিন যায়, কিন্তু বাঁচা থেমে যায়।”
শেষ চিঠিতে ছিল ছোট্ট একটা লাইন:
“শ্রেয়া, যদি তুমি চাও, আমি সারাজীবন তোমার নীরব কবি হয়ে থাকতে পারি।”
শ্রেয়া চোখ ভিজিয়ে বলে,
— “তুমি শুধু কবি না… আমার জীবনপাঠের সবচেয়ে সুন্দর সারাংশ।”
🎓 শেষ লাইন:
কলেজের করিডরে তখনো ভেসে আসে পেছনের বেঞ্চে দুই প্রেমিক-প্রেমিকার মৃদু হাসি, আর একজন নীরব ছেলের মনের কবিতা—যা শুধু একজন শ্রেয়ার জন্যই লেখা।
.png)
0 Comments