"রোদ আর বৃষ্টির গল্প"

 নাম তার আয়ান। শহরের এক ব্যস্ত লাইব্রেরিতে চাকরি করে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে এসে বই গুছিয়ে রাখে, নতুন বইয়ের তালিকা তৈরি করে, আর পুরনো বইয়ের ধুলো ঝাড়ে। একঘেয়ে হলেও আয়ান বই ভালোবাসে—আর বইয়ের পাতায় প্রেম খোঁজে।

একদিন হঠাৎ করেই লাইব্রেরিতে আসে মেহরিন। হাতে একটি পুরনো উপন্যাস, যা সে ফিরিয়ে দিতে এসেছে। মেয়েটি চোখে চশমা, মুখে এক শান্ত সৌন্দর্য। সে কথা বলল কম, কিন্তু চোখে যেন ছিল হাজার কথা।

সেই এক দেখাতেই আয়ান মুগ্ধ হয়ে যায়।

পরদিন আবার এল মেহরিন। বই নিতে না, বসে রইল লাইব্রেরির কোণে—চুপচাপ পড়ছিল। আয়ান বইয়ের মাঝে ছোট্ট একটি চিরকুট রাখল তার জন্য:

“তোমার চোখের চশমার পেছনে লুকানো গল্পটা জানতে ইচ্ছে করে। একদিন যদি বলো…”

মেহরিন চুপচাপ পড়ে গেলো। কিন্তু চলে যাওয়ার সময়, একটা বই ফিরিয়ে দিয়ে গেল—তাতেও একটা চিরকুট:

“গল্পটা বলব, কিন্তু শোনার মতো যদি একজন সত্যিকারের শ্রোতা থাকো।”

এরপর থেকে প্রতি শুক্রবার, মেহরিন আসত। কখনো বই পড়তো, কখনো আয়ান বসে থাকত তার পাশে। ধীরে ধীরে দুইজনের মাঝে তৈরি হল এক নিরব বোঝাপড়া। শব্দ কম, অনুভূতি বেশি।

একদিন হঠাৎ বৃষ্টি নামে। শহরজুড়ে ভিজে যায় সব। লাইব্রেরির জানালায় আয়ান আর মেহরিন দুজনেই চুপচাপ তাকিয়ে। আয়ান হঠাৎ বলে উঠল:

“রোদ যেমন নিজের উষ্ণতা দিয়ে বৃষ্টি শুকিয়ে দেয়, তেমন করেই তুমি আমার একলা জীবনে আলো এনেছো। তুমি কি আমার জীবনের গল্পে রয়ে যাবে চিরদিনের মতো?”

মেহরিন হাসল। একটুও না লজ্জা পেয়ে বলল:

“শর্ত একটাই—তোমার লাইব্রেরির প্রতিটি বই পড়ে ফেলতে হবে, আর আমার প্রতিটি গল্প শোনার ধৈর্য রাখতে হবে।”

সেই দিন থেকে, রোদ আর বৃষ্টি মিলেমিশে একসঙ্গে পথ চলতে শুরু করল।


শেষ নয়, এটা শুরু। ভালোবাসার গল্পগুলো কখনো শেষ হয় না, শুধু নতুন অধ্যায়ে পা রাখে।

Post a Comment

0 Comments

atOptions = { 'key' : 'bd9eefaebdf6b7004e830a30ae8ff6f5', 'form