"চায়ের কাপে ভালোবাসা"

 

"চায়ের কাপে ভালোবাসা"

পটভূমি: কক্সবাজারের এক ছোট্ট চা-ক্যাফে, নাম নীলচে বিকেল

তারা দুজন—অয়ন আর শ্রেয়া—প্রথম দেখা হয়েছিল বৃষ্টিভেজা এক সন্ধ্যায়। অয়ন ছিল ওই ক্যাফেটার স্থায়ী অতিথি, লেখক। ছিমছাম টেবিল, জানালার পাশে বসে সে চা খেতে খেতে লিখত নিজের ছোটগল্প। আর শ্রেয়া ছিল এক ট্যুরিস্ট, হঠাৎ ঢুকে পড়েছিল বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে।

শ্রেয়া ছাতাটা বন্ধ করে বলেছিল,
“এখানে কি বসা যাবে?”

অয়ন চোখ তুলে তাকায়, হেসে বলে,
“এই টেবিলটা লেখকদের জন্য সংরক্ষিত, তবে তুমি যদি কবিতা ভালোবাসো, তাহলে বসতেই পারো।”

শ্রেয়া হেসে বসে পড়ে। অয়নের হাতে তখনও খোলা খাতাটা। সেখানে লেখা ছিল,
“ভালোবাসা মানে অপেক্ষা, শুধু কাছে আসার নয়, কখনো কখনো পাশে বসে নীরব থাকারও নাম।”

শ্রেয়া পড়ে বলে,
“তোমার লেখার গন্ধে চায়ের মতো একটা আলাদা উষ্ণতা আছে।”

সেই থেকে প্রতি সন্ধ্যায় তারা একসাথে বসত ক্যাফেতে। চা, গল্প, নিরবতা, মাঝেমধ্যে সমুদ্রের গর্জন—সব মিলে এক নীরব প্রেম।

একদিন ক্যাফের মালিক বলে,
“তোমাদের জন্য চা ফ্রি, কারণ এই টেবিলে বসে প্রেমের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছে।”

সেই সন্ধ্যায় অয়ন শ্রেয়ার হাতে একটা ছোট খাতা ধরিয়ে দেয়। ভিতরে লেখা ছিল:
“তোমাকে ভালোবেসে আমার গল্প শেষ হয়নি, বরং শুরু হয়েছে।”

শ্রেয়া চুপচাপ মাথা ঝাঁকায়। ক্যাফেটার দরজায় ঝুলতে থাকে এক নতুন বোর্ড:
“আজকের বিশেষ মেনু: চায়ের কাপে প্রেম।”

Post a Comment

0 Comments

atOptions = { 'key' : 'bd9eefaebdf6b7004e830a30ae8ff6f5', 'form