তোমার চোখে বসন্ত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ক্লাস। নতুন সেমিস্টার, নতুন মুখ। বইয়ের ভাঁজে ভাঁজে যতই শব্দ থাকুক, তার চেয়েও বেশি শব্দ জমে থাকে চোখের ভাষায়।
আর সেই চোখেই প্রথম দেখা — অরিত্রর সাথে নীলার।
নীলা সদ্য মফস্বল শহর থেকে ঢাকায় এসেছে। ঢাকার ব্যস্ততা, মানুষের ভিড়, আর বড় শহরের ঠান্ডা আবহ তাকে একটু শঙ্কিত করেছিল। কিন্তু সেই শঙ্কা ভেঙে দিয়েছিল অরিত্র, যখন ক্লাসের প্রথম দিন সে হেসে বলে,
“তুমি কি সিট খুঁজছো? এখানে বসতে পারো, জানালার ধারে। বাতাসটা দারুণ লাগে।”
তারপর ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। দুপুরের খাবার ভাগাভাগি, লাইব্রেরিতে বই খোঁজা, ক্যাম্পাসে বিকেলের হাঁটাহাঁটি — সব মিলিয়ে যেন এক অনুচ্চারিত প্রেম জমে ওঠে।
একদিন বিকেলে বটতলায় বসে অরিত্র বলেছিল,
“তুমি জানো, তোমার চোখে বসন্ত নামে। এই শহরের ধুলোবালিতেও একটা নরম অনুভব জেগে ওঠে।”
নীলা কিছু বলেনি। শুধু হেসেছিল। সেই হাসিতে হাজার কবিতা লুকানো ছিল।
এরপর বছর কেটে যায়। ভালোবাসার কথা তখনো মুখে বলা হয়নি। কিন্তু মন বলে দিয়েছে, তারা একে অপরের জন্যই তৈরি।
একদিন হঠাৎ করে ক্যাম্পাসে ঝরঝর বৃষ্টি নামে। সবাই ছুটে পালিয়ে যায়। কিন্তু নীলা ছাতা না থাকা সত্ত্বেও দাঁড়িয়ে থাকে বৃষ্টির নিচে।
অরিত্র ছুটে আসে, তার ছাতাটা বাড়িয়ে ধরে।
নীলা বলে, “এই ভেজা বিকেলটা কি তুমি আমার করে রাখতে পারো?”
অরিত্র মৃদু হেসে বলে, “আমি তো অনেক আগেই তোমার হয়ে গেছি।”
0 Comments