**প্রথম অধ্যায়: অপ্রত্যাশিত দেখা**
ঝড়বৃষ্টির এক সন্ধ্যায় রিদিতা দৌড়ে একটা কফিশপের ছাউনির নিচে দাঁড়ালো। ভিজে চুল তার গালে লেপ্টে আছে, জামা কাপড়ও ভিজে গেছে। ঠিক তখনই একজনের হাত থেকে উড়ে আসা একটা নীল রেইনকোট তার পায়ের কাছে পড়ল।
"এটা নিন, ভিজে যাবেন না," একটা কোমল গলা বলল।
রিদিতা মাথা তুলে দেখল লম্বা, কালো চুলওয়ালা এক যুবক দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে এক অদ্ভুত উষ্ণতা।
"ধন্যবাদ," রিদিতা লজ্জায় মাথা নিচু করে বলল।
"আমি আরিয়ান," যুবকটি হাসল।
"আমি রিদিতা।"
বৃষ্টি থামার আগেই তাদের কথোপকথন শুরু হয়ে গেল। কফিশপের ভেতরে গরম কফির কাপ হাতে তারা একে অপরের জীবনের গল্প শুনতে লাগল। রিদিতা জানল আরিয়ান একজন ফটোগ্রাফার, আর আরিয়ান জানল রিদিতা একজন লেখিকা।
**দ্বিতীয় অধ্যায়: গভীর সম্পর্ক**
দিন যায়, সপ্তাহ যায়। তাদের দেখা হওয়া নিয়মিত হতে লাগল। কফিশপ, পার্ক, বইমেলা—সব জায়গায় তারা একসাথে হাঁটে, গল্প করে। রিদিতা আবিষ্কার করল আরিয়ানের চোখে একটা বিষণ্ণতা লুকিয়ে আছে। একদিন সে জিজ্ঞেস করল, "তোমার চোখে এত грусть কেন?"
আরিয়ান একটু থেমে বলল, "আমার অতীতটা একটু জটিল। কিন্তু তোমার সাথে সময় কাটালে মনে হয় সব ভুলে যাই।"
রিদিতা তার হাত চেপে ধরল, "তুমি একা নও।"
**তৃতীয় অধ্যায়: বিচ্ছেদ**
কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই আরিয়ান অদৃশ্য হয়ে গেল। ফোন, মেসেজ—কোনো কিছুরই উত্তর দিল না সে। রিদিতা হতাশ হয়ে পড়ল। তার লেখাগুলোতেও যেন হারিয়ে গেল রঙ। মাসখানেক পর এক চিঠি পেল:
*"রিদিতা,
আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি। আমার একটা পুরনো রোগ ফিরে এসেছিল। চিকিৎসার জন্য বিদেশে ছিলাম। এখন ভালো আছি। যদি ক্ষমা করে থাকো, তাহলে আমাদের সেই কফিশপে দেখা করো।
—আরিয়ান"*
**চতুর্থ অধ্যায়: পুনর্মিলন**
রিদিতা দৌড়ে গেল কফিশপে। আরিয়ান দাঁড়িয়ে আছে ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে প্রথম দেখা হয়েছিল তাদের। এবার তার হাসিতে কোনো বিষণ্ণতা নেই।
"এতদিন অপেক্ষা করিয়ো কেন?" রিদিতা চোখে পানি নিয়ে বলল।
"তোমাকে ছাড়া আমার জীবন অসম্পূর্ণ," আরিয়ান তার হাত ধরে বলল, "আমি চাই তুমি আমার হয়ে থাকো।"
রিদিতা হাসল, "আমিও তো তাই চাই।"
সেই দিন থেকে তাদের জীবন যেন নতুন রঙে ভরে গেল। প্রেম, বিশ্বাস আর অপেক্ষার গল্প হয়ে রইল তাদের ভালোবাসা।
**শেষ**

0 Comments