**রোমান্টিক লাভ স্টোরি: "তোমার ছোঁয়ায় জীবন"**

**রোমান্টিক লাভ স্টোরি: "তোমার ছোঁয়ায় জীবন"**

  


**প্রথম পরিচ্ছেদ: আকস্মিক সংঘাত**  

বৃষ্টিস্নাত এক বিকেলে অর্ণব তার নতুন নভেলের জন্য অনুপ্রেরণা খুঁজতে কলেজ ক্যাম্পাসের পিছনের লাইব্রেরিতে ঢুকল। বইয়ের তাক ঘেঁটে ঘেঁটে হঠাৎ তার হাত ঠেকল একজনের গরম কফির কাপে। গরম তরল ছিটকে পড়ল তার সাদা শার্টে।  


"ওহ নো! আমার নতুন শার্ট!" অর্ণব চিৎকার করে উঠল।  


"এটা আমার ভুল, আমি真的很抱歉!" এক কণ্ঠস্বর বলল।  


অর্ণব মাথা তুলে দেখল এক তরুণী লাল চশমা পরা চোখে আতঙ্ক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে ভারী বইয়ের স্তূপ, গলায় ঝুলছে ক্যামেরা।  


"তুমি...?" অর্ণব জিজ্ঞাসা করল।  


"আমি ময়ূখী। ফটোগ্রাফি ডিপার্টমেন্ট। আর তুমি?"  


"অর্ণব। ইংরেজি বিভাগ। লেখালেখি করি।"  

**দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শত্রুতা থেকে বন্ধুত্ব**  


পরের কয়েক সপ্তাহে তারা বারবার একে অপরের পথে পড়তে লাগল। ক্যাফেটেরিয়ায়, লাইব্রেরিতে, এমনকি বাস স্টপে। ময়ূখীর ক্যামেরা থেকে অর্ণবের লেখার নোটবুক পর্যন্ত সব জায়গায় তারা একে অপরকে টিটকারি দিতে শুরু করল।  


কিন্তু একদিন, কলেজের বার্ষিক প্রদর্শনীতে ময়ূখীর ফটোগ্রাফি সিরিজ দেখে অর্ণবের মন গলে গেল। ছবিগুলোয় ছিল নগরজীবনের নিঃসঙ্গতা নিয়ে এক গভীর ব্যাখ্যা।  


"এগুলো... অসাধারণ," অর্ণব স্বীকার করল।  


ময়ূখী অবাক হয়ে তাকাল, "সত্যি বলছ?"  


"হ্যাঁ। আমার পরের গল্পের জন্য অনুপ্রেরণা পেয়েছি এগুলো থেকে।"  

**তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হৃদয়ের গভীরে**  


দিনগুলোতে তারা একসাথে কাটাতে শুরু করল। অর্ণব ময়ূখীকে কবিতা শোনাত, আর ময়ূখী তাকে শেখাত কিভাবে ক্যামেরার লেন্স দিয়ে পৃথিবী দেখা যায়। এক শীতের সন্ধ্যায়, ক্যাম্পাসের ছাদে তারা একসাথে শহরের আলো দেখছিল।  


"অর্ণব," ময়ূখী হঠাৎ বলল, "আমি একটা ফটোগ্রাফি স্কলারশিপ পেয়েছি। সুইজারল্যান্ডে। ছয় মাসের প্রোগ্রাম।"  


অর্ণবের হৃদয় ধাক্কা খেল, "এটা তো চমৎকার খবর! কবে যাচ্ছ?"  


"পরের মাসে। কিন্তু..." ময়ূখীর কণ্ঠে hesitation।  


"কিন্তু কি?"  


"তোমাকে ছাড়া কি আমি...?"  

**চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সময়ের পরীক্ষা**  


ময়ূখী চলে গেল। প্রথম কয়েক সপ্তাহ তারা প্রতিদিন ভিডিও কল করত। কিন্তু সময়ের ব্যবধান আর কাজের চাপে যোগাযোগ কমতে লাগল। অর্ণবের নতুন নভেলের ডেডলাইন চাপ দিচ্ছিল, ময়ূখীরও ছিল ব্যস্ত শিডিউল।  


একদিন, অর্ণবের ইমেইলে ময়ূখীর একটা ছবি এল: সাদা বরফে ঢাকা আল্পসের পাহাড়, আর নিচে লেখা "এখানে তুমি থাকলে ভালো হত।"  


**পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পুনর্মিলন**  


ছয় মাস পর, কলেজের গ্র্যাজুয়েশন দিন। অর্ণব তার নভেলের কপি নিয়ে স্টেজে উঠছে, হঠাৎ দেখল দর্শকদের সারিতে এক熟悉 চেহারা। ময়ূখী!  


সারমোনি শেষ হতেই অর্ণব দৌড়ে গেল তার কাছে।  


"কি করে...?"  

"তোমার প্রথম বই লঞ্চ মিস করবো কি করে?" ময়ূখী হাসল। তার হাতে ছিল একটা ফটো অ্যালবাম, যার প্রতিটি পৃষ্ঠায় ছিল অর্ণবের লেখার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকা জায়গাগুলোর ছবি।  


"এবার আমি ফিরে এসেছি," ময়ূখী বলল, "চিরকালের জন্য।"  


অর্ণব তাকে জড়িয়ে ধরল। তাদের চারপাশে বন্ধুরা তালি দিতে লাগল।  

**শেষাংশ: নতুন শুরু**  

সেদিনের পর থেকে তারা একসাথে কাজ করতে লাগল। অর্ণবের লেখা আর ময়ূখীর ছবি নিয়ে তারা তৈরি করল এক অনন্য আর্ট বই। তাদের প্রেমের গল্পটা হয়ে রইল কলেজ ক্যাম্পাসের সবচেয়ে প্রিয় urban legend।  


কারণ ভালোবাসা মানেই তো—একজনকে খুঁজে পাওয়া যে তোমার অসম্পূর্ণতাগুলোকে পরিপূর্ণ করে তোলে।  


**[সমাপ্ত]**

Post a Comment

0 Comments

atOptions = { 'key' : 'bd9eefaebdf6b7004e830a30ae8ff6f5', 'form