"চিঠি আসেনি তবু অপেক্ষা…"

 

"চিঠি আসেনি তবু অপেক্ষা…"

নাম ছিল রিদওয়ান। পেশায় ডাকপিয়ন। প্রতিদিন সকালে সাইকেলে চড়ে চিঠি বিলি করত শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। সবাই তাকে চিনত, সবাই তাকে ভালোবাসত—কারণ সে শুধু চিঠি দিত না, অনেক সময় খুশিও পৌঁছে দিত।

একদিন এক পুরনো বাড়িতে গিয়ে এক খামে লেখা দেখে:
"প্রাপিকা: লায়লা রহমান, বাতেন কুঠি, পুরান পাড়া"

বাড়িটা অদ্ভুত নিরব। একটা মায়া জড়ানো চেহারা। দরজা খুলল এক বৃদ্ধা—চুলে রূপালি আভা, চোখে গভীরতা।

লায়লা রহমান।

তিনি ধীরে চিঠিটা হাতে নিলেন, হেসে বললেন,
“চিঠিটা এসেছে, এত বছর পর! তুমি কি জানো, এই ঠিকানায় আমি চল্লিশ বছর ধরে বসে আছি শুধু এই একটি চিঠির জন্য?”

রিদওয়ান অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
“কে পাঠিয়েছিল আপনাকে শেষ চিঠি?”

লায়লা উত্তর দেন না। চুপ করে জানালার পাশে গিয়ে বসে পড়েন। চোখে জল ঝরে।

রিদওয়ান সেই দিন থেকে প্রায়ই যেতে থাকে লায়লার কাছে। সে গল্প করে, শহরের খবর দেয়, নতুন বই এনে দেয়। ধীরে ধীরে তাদের মাঝে এক গভীর বন্ধন গড়ে ওঠে—একটা নিরব ভালোবাসা, বয়সের ঊর্ধ্বে।

তিন মাস পর একদিন রিদওয়ান একটা চিঠি নিয়ে আসে।
বিষয়বস্তু অল্প—
“লায়লা, আমি ফিরছি। এবার আর দেরি করব না। – তানভীর”

চিঠিটা হাতে পেয়ে লায়লা শুধু মুচকি হাসেন। চোখ বুঁজে বলেন,
“দেখলে, ভালোবাসা কখনো মরে না। কেবল সময় নেয় ঠিকানায় পৌঁছাতে।”

সেই রাতেই লায়লা ঘুমিয়ে পড়েন—চিরনিদ্রায়। হাতে চেপে ধরা সেই শেষ চিঠি।

রিদওয়ান কাঁদে না। কেবল খামে একটা নতুন ঠিকানা লেখে—

"লায়লা রহমান, আকাশের ঠিকানা"
পাশে লেখে:
“তানভীর এসেছে, এখন তোমরা একসঙ্গে চিরকাল।”


ভালোবাসা কখনো চিঠির মতোই—হারিয়ে যেতে পারে, দেরি হতে পারে, কিন্তু একদিন ঠিক পৌঁছায়। ঠিকানায় না হোক, মনে ঠিকই।

Post a Comment

0 Comments

atOptions = { 'key' : 'bd9eefaebdf6b7004e830a30ae8ff6f5', 'form