"চা-কাপের গল্প"
ঢাকার এক ব্যস্ত মোড়—নামাজগড়। গাড়ির হর্ণ, ধুলো, আর ভিড়ের মাঝেও একটুকু শান্তি আছে সেখানকার ছোট্ট এক চায়ের দোকানে। দোকানের নাম "মনের জানালা"। দোকানটা একটু অন্যরকম—চা আর বই একসঙ্গে পাওয়া যায়।
এই দোকানেই প্রতিদিন বিকেল পাঁচটায় আসে তাশফি। শহরের এক ডিজাইন ফার্মে চাকরি করে। ঝামেলা, ক্লায়েন্ট, প্রেসার—সবকিছু ভুলে কিছু সময় বইয়ের পাতা আর ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপেই শান্তি খোঁজে সে।
একদিন তার সামনের টেবিলে বসে রাফিন। রাফিন একজন ফটোগ্রাফার। হাতে ক্যামেরা, চোখে দৃষ্টি—যা দেখে, সেটাকে ছবিতে পরিণত করে।
তাশফি হালকা বিরক্ত হয়—কারণ ছেলেটি চুপচাপ তাকিয়ে ছিল বইয়ের কভারটার দিকে।
তাশফি জিজ্ঞেস করে,
“কী দেখছেন?”
রাফিন হেসে জবাব দেয়,
“বই নয়, তোমার চোখ। খুব শান্ত মনে হলো। ছবির মতো।”
তাশফি অবাক হয়, বিরক্ত হয় না। কারণ ছেলেটির চোখে সত্যি বলার ভঙ্গি ছিল।
এরপর থেকে তারা মাঝে মাঝে দেখা করতে থাকে—কখনো "মনের জানালায়", কখনো হাঁটতে হাঁটতে বেইলী রোডের রাস্তা ধরে।
তাশফির অভ্যেস ছিল চা খেতে খেতে কিছু একটা লিখে ফেলা—কখনো কাগজে, কখনো চায়ের কাপের পিছনে। সে সেসব ফেলে রেখে চলে যেত।
রাফিন সেই কাপগুলো জমিয়ে রাখত—তাশফির অজান্তে।
একদিন তাশফি অনেক কষ্টে বলল,
“আমি প্রেমে পড়ি, কিন্তু বিশ্বাস করি না সেটা থেকে কেউ থাকে।”
রাফিন হেসে জবাব দিল,
“তবে আমি থেকে যাবো—তোমার ফেলে যাওয়া চায়ের কাপের মতো। যত ছোট হোক, তবুও রেখে যাবো গল্প।”
তাশফি কিছু বলেনি। কিন্তু সেই দিনের পর আর একা চা খায়নি।
একটি চায়ের কাপ হয়তো একা, কিন্তু তাতে ভেসে থাকা চিনি-পাতার মতো কিছু সম্পর্ক থাকে যা ধীরে ধীরে গলে গিয়ে একটা গল্প গড়ে।
0 Comments